খবর

সালমান এফ রহমানের সাথে বিটিএমএ’র প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

18 February, 2019
Source: The Daily Ajker Bazzar

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ এসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) একটি প্রতিনিধি দল গত ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানন্ত্রীর বেসরকারী খাত ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সালমান এফ রহমানের সাথে তাঁর গুলশানস্থ কার্যালয়ে সাক্ষাত করেন।

বিটিএমএ’র প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সমিতির সভাপতি জনাব মোহাম্মদ্ আলী খোকন। সাক্ষাত কালে জনাব খোকন মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়কে বিগত ১ বছর বা তার বেশি সময় যাবত বাংলাদেশের প্রাইমারী টেক্সটাইল সেক্টরের স্পিনিং, উইভিং ও ডাইং-প্রিন্টিং-ফিনিশিং মিলগুলোর বিভিন্ন সমস্যাদি অবহিত করেন। সাক্ষাতকালে জনাব খোকন উপদেষ্টা মহোদয়কে জানান যে শুল্ক ও করমুক্ত এবং Mis-declaration এর মাধ্যমে আমদানিকৃত সুতা, কাপড়, বিদেশী শাড়িসহ অন্যান্য ড্রেস ম্যাটেরিয়াল স্থানীয় বাজারে অবাধ ব্যাপকভাবে বাজারজাতকরনের জন্য মিলগুলো তাদের তৈরী সুতা ও কাপড়ের প্রকৃত মূল্য পাচ্ছে না। ফলে স্থানীয় মিলগুলোর তৈরী সুতা ও কাপড়ের বিক্রি আশংকাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। তিনি আরো জানান এর প্রভাবে বাংলাদেশের প্রায় ১ লক্ষের মত পাওয়ার লুম যেগুলো মূলতঃ নরসিংদী, মাধবদী, বাবুরহাট, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন মিলে স্থাপিত তার ৫০/৬০ শতাংশের বেশী লুম দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ হয়ে আছে। এর সামগ্রীক প্রভাবে বাংলাদেশের স্পিনিং ও উইভিং মিলগুলো বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তিনি মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়কে আরো জানান, উইভিং মিলগুলো তাদের উৎপাদন ক্ষমতার সম্পূর্ণ অংশ ব্যবহার না করতে পারার কারণে ওভেন ডাইয়িং মিলগুলোও তাদের ডায়িং ক্ষমতা ৪০ শতাংশের নীচে নামিয়ে এনেছে। অন্যদিকে উইভিং মিলগুলো তাদের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করতে না পারায় যে সকল স্পিনিং মিল স্থানীয় ফেব্রিক তৈরীর উদ্দেশ্যে সুতা তৈরী করতো সে সকল মিলেরও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। ফলে রপ্তানিমুখী স্পিনিং ও ফেব্রিক মিলগুলোও তাদের তৈরী সুতা ও ফেব্রিক উৎপাদন খরচ অপেক্ষা কম মূল্যে বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে। এরই ফলশ্রুতিতে স্পিনিং ও উইভিং মিলগুলোতে সূতা ও কাপড়ের মজুত হচ্ছে। তিনি জানান যে, বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে মিলগুলোর পক্ষে তাদের ব্যাংক ঋনের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মিলগুলো ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋন নিয়ে শিল্প স্থাপন ও পরিচালনা করছে। ফলশ্রুতিতে তাদের Cost of Doing Business বৃদ্ধি পাচ্ছে যা মিলগুলোর প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরো দুর্বল করছে। এছাড়াও বিদ্যমান বিকল্প নগদ সহায়তা যা ৪ শতাংশ যা অন্যান্য দেশ কর্তৃক বিভিন্ন প্রনোদনা বা সুবিধার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে প্রাপ্ত প্রনোদনা কার্যতঃ কোন ইতিবাচক ভুমিকা রাখছে না।

তিনি মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়কে অবহিত করেন যে বিগত ৫ বছরের মধ্যে ভারত, চীন, পাকিস্তান তাদের মুদ্রার অবমূল্যায়ন (devaluation) করেছে যথাক্রমে ১৯.৪৫ ও ১০.৮ শতাংশ ও ৩৬.৬ শতাংশ যা প্রকারান্তরে তাদের রপ্তানিকারকদের জন্য এক ধরনের প্রনোদনা। অথচ এর বিপরীতে বাংলাদেশের টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে মাত্র ১ বার তথা ৬.৯৩ শতাংশ। আলোচনার সময় বিটিএমএ’র প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন যে, আগামী ২/১ মাস পরই ঈদুল ফিতরের জন্য আমাদের টেক্সটাইল খাত প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। কিন্তু মিলগুলোতে কার্য্যতঃ কোন কাজ নেই। অথচ টেক্সটাইল মিলগুলো চালু থাকুক, আর নাই থাকুক ইউটিলিটিসহ বেতন, মজুরী-বোনাস ও অন্যান্য ভাতাদি সরকারী নির্দেশনায় পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে টেক্সটাইল স্পিনিং, উইভিংসহ ডায়িং-প্রিন্টিং মিলগুলো বেতন, মজুরী পরিশোধ করা তো দূরের কথা, তারল্য সংকটের কারনে বন্ধ হয়ে যাবার সমূহ আশংকা রয়েছে। ফলে লক্ষ লক্ষ লোক কর্মহীন হয়ে পড়বে যা আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

উল্লিখিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিটিএমএ’র প্রেসিডেন্ট অবিলম্বে ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ সংশ্লিষ্ট মিলের ক্ষেত্রে এখন থেকে আরো ১০ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধিসহ ব্যাংক ঋণের সুদের হার সিংগেল ডিজিটে নির্ধারণ এস. আরও নম্বর ১৯৩-আইন/আয়কর/২০১৫ তারিখ ৩০ শে, জুন ২০১৫-এ ধার্য্যকৃত আয়কর হার আগামী ২০২৮ সন পর্যন্ত অব্যাহত রাখা প্রাইমারী টেক্সটাইল সেক্টরের স্পিনিং ও উইভিং মিলের তৈরী সূতা ও কাপড়কে ভ্যাট অব্যাহতি প্রাপ্ত-পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত বিদ্যমান বিকল্প নগদ সহায়তা ৪ শতাংশ সহায়তা থেকে বৃদ্ধি করে নুন্যতম ৭ শতাংশ নির্ধারণসহ ফেবিক্স ও তৈরী পোশাকের নগদ সহায়তা এফওবি পণ্যের উপর প্রদানের লক্ষ্যে বিদ্যমান হিসাবায়ন পদ্ধতিটির পরিবর্তনকরণ এবং তুলার ক্রয় মূল্য অপেক্ষা উৎপাদন খরচের তুলনায় সুতা ও কাপড় বিক্রয় জনিত কারনে ক্ষতিগ্রস্থ সংশ্লিষ্ট মিলগুলোকে সাময়িকভাবে এককালীন প্রণোদনা প্রদান সুতা ও কাপড়ের প্রকৃত আমদানি নিশ্চিতের লক্ষ্যে আরো কার্য্যকর তদারকি ব্যবস্থা তথা প্রকৃত ঘোষণার ভিত্তিতে সুতা ও কাপড়ের আমদানি হয়েছে কিনা তা নিশ্চিতপূর্বক খালাসের ব্যবস্থাসহ আমদানিকৃত সুতা ও কাপড়ের বাস্তব ও গ্রহণযোগ্য ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারণ এবং বন্ডের মাধ্যমে আমদানি তথ্য সুতা ও কাপড়ের মোড়কে সুস্পষ্টভাবে ‘‘রপ্তানি পণ্য তৈরীতে ব্যবহারের জন্য NOT FOR SALE” উল্লেখপূর্বক আমদানির বিধান প্রবর্তন করার লক্ষ্যে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে উত্থাপনের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য মাননীয় উপদেষ্টা মহোদয়ের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সাক্ষাতকালে সমিতির অন্যান্য যে সকল উচ্চ পর্যায়ের সদস্য উপস্থিত ছিলেন তারা হলেন সর্বজনাব আলমগীর শামসুল আলামীন, ভাইস প্রেসিডেন্ট, আবদুল্লাহ আল মামুন, ভাইস প্রেসিডেন্ট, সৈয়দ এনায়েত কবির, পরিচালক, এ মতিন চৌধুরী, সাবেক প্রেসিডেন্ট, জাহাঙ্গীর আলামীন, সাবেক প্রেসিডেন্ট, মোহাম্মদ শাহজাহান, সাবেক প্রেসিডেন্ট, জনাব মনসুর আহমেদ, সেক্রেটারী ও নূরুল ইসলাম, চেয়ারম্যান নোমান গ্রুপ।