খবর

আরও প্রণোদনা চান বিজিএমইএ নেতারা

17 February, 2019
Source: bdnew24.com

পোশাক শিল্পের ‘সঙ্কট’ কাটাতে সরকারের এই খাতের প্রতিনিধিদের কাছে নগদ প্রণোদনা বাড়ানোসহ বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা চেয়ে আশ্বাস পেয়েছেন বিজিএমইএ নেতারা।

আগামী বাজেটে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ দেখা যাবে বলে পোশাক ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ ও উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

শনিবার পোশাক খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসা ও মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়াদের সংবর্ধনা দেয় বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান রহমান ছাড়াও সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও কয়েকজন সংসদ সদস্য ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠান চলে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে ব্যবসায়ীদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। ভ্যাট-ট্যাক্স নিয়ে এনবিআরএর ‘হয়রানি’ রোধে ডিজিটাল পদ্ধতি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এড়িয়ে অনলাইনের মাধ্যমে এসব পরিশোধের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

এছাড়া অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কেনা পণ্যে ভ্যাট পরিশোধের দায় শিল্পোদ্যোক্তাদের থেকে বিক্রেতাদের ওপর দেওয়ার দাবি জানান বিজিএমইএ সভাপতি।

সিদ্দিকুর বলেন, “ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স দিতে চায়, কিন্তু তারা অফিসারদের এড়িয়ে চলতে চান। অনলাইনের মাধ্যমে যদি এই পদ্ধতি চালু করা যায় তাহলে ব্যবসায়ীদের হয়রানির পথ বন্ধ হবে। যারা দেবে না তারাই কেবল কর্মকর্তাদের মোকাবেলা করবেন।”

বেতন বৃদ্ধি ও পণ্যের মূল্য কমে যাওয়ার পর কারখানা মালিকদের ‘রক্তক্ষরণ’ হচ্ছে দাবি করে বিজিএমইএর সভাপতি নগদ প্রণোদনা ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আগামী দুই বছরের জন্য ৫ শতাংশ করার দাবি জানান।

পাশাপাশি দেউলিয়া হয়ে পড়া মালিকদের রক্ষায় একটি ‘এক্সিট নীতিমালা’ করার দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শত শত কারখানা মালিক করতালির মাধ্যমে তাকে সমর্থন জানান।

প্রধামন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এবার বেসরকারি খাতের ওপর ভর করে নেক্সট লেভেলে উন্নীত হতে চান। তাই তিনি মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোতে ব্যবসায়ীদের বসিয়েছেন। আগামী বাজেটে আপনারা এর বেশ কিছু ইতিবাচক প্রভাব দেখতে পাবেন।”

ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে ব্যবসায়ীদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করতে চান বলে জানান সালমান রহমান। এছাড়া দেউলিয়া হয়ে যাওয়া কোম্পানিগুলোর ‘এক্সিট রুট’ দিতে নীতিমালা তৈরির কাজ চলছেও বলে জানান তিনি।

তবে ব্যবসায়ীদের ‘ওভার ইনভয়েসিং’ বা ‘আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের’ মাধ্যমে অর্থপাচারের বিষয়ে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। ভ্যাট-ট্যাক্সের হার না বাড়িয়ে আরও বেশি মানুষকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, “ব্যাংক ঋণে বর্তমানের ১২ থেকে ১৩ শতাংশ সুদ হার বহাল থাকলে ব্যবসায়ীরা টিকবে কী করে? এই সুদ হার এক অংকের ঘরে নিয়ে আসতে হবে।”

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি হিসাবে নিজের পরিচয় তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি এখনও নিজেকে এই সেক্টর থেকে আলাদা ভাবি না। এই সেক্টরের ভালো কিছু মানে আমার ভালো কিছু।”

নরসিংদী-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন, সিলেট-৩ আসনের মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কায়েস, সিরাজগঞ্জ-৫ থেকে নির্বাচিত আব্দুল মমিন মণ্ডল, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান সিনহাসহ পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট অনেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।