খবর

প্রযুক্তির অনুকূল পরিবেশকে কাজে লাগাতে হবে

11 March, 2021
Source: The Daily Manabzamin

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, গত ১৫ বছরে বিশ্ব প্রযুক্তি খাত খুবই দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেছে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান সরকারও উচ্চ গতির ইন্টারনেট গ্রাম পর্যন্ত নিয়ে গেছে। এখন দরকার আমাদের উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তির এই অনুকূল পরিবেশকে কাজে লাগানো। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে ক্রিয়েটিভ মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিল (সিএমআইএসসি) উদ্বোধনকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) দুলাল কৃষ্ণ সাহা।

সালমান এফ রহমান বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজ কি হবে তা নিয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম থেকেই কাজ করে আসছি। ক্রিয়েটিভ মিডিয়া ও টেকনোলজির মিশ্রণেই ক্রিয়েটিভ মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে। আমাদের টেকনোলজি বেশ এগিয়ে আছে, যা আপনাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। এই কাউন্সিলের অগ্রগতির জন্য জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সর্বদা পাশে থাকবে।

সালমান এফ রহমান বলেন, প্রযুক্তির দক্ষতা অর্জন খুবই দরকারি।

বিশ্বসহ বাংলাদেশে এই খাত গত ১৫ বছরে দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেছে। এটার সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিয়ে সামনে এগোতে হবে। পাশাপাশি আমাদের যে অবকাঠমো তৈরি হয়েছে তার সুযোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে। এখন দরকার এই খাতকে ব্যবহার করে সঠিক প্রয়োগ করা। তিনি বলেন, প্রযুক্তি বিশ্বে বাংলাদেশি ছেলে অস্কার পাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে পেলো না কেন? অভিযোগ ছিল আমাদের সেই সক্ষমতা ছিল না। তবে এখন সেই অভিযোগ করার সুযোগ নাই। আমাদের সবধরনের অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। এখন দরকার কাজে লাগানো।

বিশেষ অতিথি জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, এমন একটি সময়ে আমরা ক্রিয়েটিভ মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিলের উদ্বোধন করছি যখন আমরা বাংলাদেশের সূবর্ণ জয়ন্তী ও জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালন করছি। সরকারি, বেসরকারি ও একাডেমিক খাত একত্রে কাজ করে যাচ্ছে বলেই আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশ। এখন আমরা আছি ডিজিটাল ইকোনমিতে। কিন্তু চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে অংশ নিতে আমাদের ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে পা রাখতে হবে। আমরা আত্মনির্ভর হতে চাই, আত্মকেন্দ্রিক নয়।

ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ক্রিয়েটিভ মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিলের যে যাত্রা আরম্ভ হয়েছে তা ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি। ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশনে অংশ নিতে দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের সরকার নতুন উদ্ভাবনকে সর্বদা স্বাগত জানিয়েছে। আশা করি ক্রিয়েটিভ মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিলের সহযোগিতায় ২০৪১ এর আগেই জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগটি তার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হবে।
শমী কায়সার বলেন, করোনার সময়ে আমাদের দেশে ই-কমার্স যেভাবে প্রসারিত হয়েছে ই-ইন্টারটেইনমেন্টেও এই প্রসারণ আসবে। আমরা মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে নেটফ্লিক্স এর বিকল্প প্লাটফর্মের সূচনা করতেই পারি।

‘ক্রিয়েটিভ মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল’র (সিএমআইএসসি) মূল লক্ষ্য সাংবাদিকতা (সকল মিডিয়া), সংগীত শিল্প, পারফর্মিং আর্টস (অভিনয়, নৃত্য, আবৃত্তি ইত্যাদি), চলচ্চিত্র ও টিভি শিল্প (বিনোদন), থিয়েটার, গ্রাফিক্‌স ডিজাইন এবং অ্যানিমেশন, কনটেম্পোরারি আর্ট, সাহিত্য ও কবিতা এবং বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৃজনশীল দক্ষতা বৃদ্ধি, মেধাবীদের তৈরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

২০১৮ সালে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) প্রতিষ্ঠিত হয়। এর লক্ষ্য ভবিষ্যতে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের দক্ষ জনগোষ্ঠীর চাহিদার পূর্বাভাস প্রকাশ; আইএসসি পরিচালনা এবং শিল্প সংযোগ জোরদার, শিক্ষানবিশি ব্যবস্থা জোরদার করা, দক্ষতা প্রদানকারী সকল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন; এসটিপি’র প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন; দক্ষতা সংক্রান্ত সকল প্রকল্প পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়কর; সক্ষমতা ভিত্তিক পেশাগত দক্ষতামান প্রণয়ন; একক উৎস থেকে অভিন্ন সনদায়ন; এমআরএ এবং আরপিএল’র ব্যবস্থাকরণ এবং এ সকল লক্ষ্য অর্জনে যেখানে প্রয়োজন সেখানে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।