খবর

বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে মনোযোগী হতে হবে: সালমান

2 December, 2020
Source: bdnew24.com

বাংলাদেশকে গাড়ি উৎপাদন যেতে হলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির নীতিমালাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

বুধবার ‘কার মার্কেট ইন বাংলাদেশ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড প্রসপেক্টস’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “চতুর্থ শিল্প বিপ্লব পরিবেশ রক্ষাকে কেন্দ্র করে ঘটছে। এই শিল্প বিপ্লবে সকল ধরনের শিল্পায়নে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। তাই আমাদের দেশে যদি গাড়ি তৈরির শিল্পায়ন করতে হয় তাহলে তা অবশ্যই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে একাত্ম হয়ে করতে হবে।

“আমাদের যদি টেকসই শিল্প করতে হয় তাহলে অবশ্যই নতুন প্রযুক্তি হিসেবে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের যদি ভর্তুকিও দিতে হয় তাও দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।”

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) এই সেমিনারের আয়োজন করে।

বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

সেমিনারে রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানীকারকদের সংগঠন বারভিডা প্রেসিডেন্ট আব্দুল হক, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশ চেয়ারম্যান ড. মাশরুর এম রেজা এবং এনবিআর সদস্য (কাস্টমস পলিসি অ্যান্ড আইসিটি) সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া বক্তব্য রাখেন।

গাড়ি উৎপাদনকারী দেশগুলো এখন পেট্রোল বা ডিজেলভিত্তিক প্রযুক্তি থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনের দিকে যাচ্ছে জানিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, “আমরা এখনও গাড়ি তৈরিতে শুন্য অবস্থানে। তাই আমার কোনো কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট নেই। এমন পরিস্থিতিতে যদি আমরা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে না এগোই তাহলে দেশীয় ও রপ্তানি বাজার ধরতে পারব না।”

তিনি বলেন, “আমাদের কাছে এখন প্রস্তাব আসছে টয়োটাসহ অনেক বিদেশি কোম্পানি বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কাছে বাংলাদেশে গাড়ি শিল্প নির্মাণের আগ্রহ প্রকাশ করে আমাদের কার পলিসি পরিবর্তন করার অনুরোধ জানিয়েছে।

“আমি তাদের বলেছি তোমরা পুরনো গাড়ি উৎপাদনে আসলে আমি কিছুই করতে পারব না। কিন্তু যদি বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন করো তাহলে কি চাও তোমরা আমাদের বলো, আমি তোমাদের প্রয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাব এবং যেসব সুবিধা চাও আমরা দেব।”

এর আগে মূল প্রবন্ধে আহসান এইচ মনসুর বলেন, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার মানুষের মাত্র তিনজন গাড়ি কেনেন। গত অর্থবছরের শেষ ছয় মাসে দেশে গাড়ি আমদানি হয়েছে মাত্র চার হাজার ৭২৫টি। যদিও তার আগের ২০১৯-১৯ অর্থবছরে ২৩ হাজার গাড়ি আমদানি হয়েছিল।

“এই আমাদনি থেকেই প্রায় পাঁচ হাজারে কোটি টাকার বেশি শুল্ক আহরণ কর যায়। যদি গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হয় তাহলে এই শুল্ক ১০ থেকে ১৫ হাজারে কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব। আমাদের গাড়ি উৎপাদনে যাওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব কিভাবে বাড়ানো যায় সে চিন্তাও করতে হবে। এজন্য সমন্বিত নীতিমালা তৈরি করতে হবে। গাড়ি উৎপাদনে যাওয়ার আগে অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ তৈরির উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কাউকে জোর করে নয়। প্রতিযোগিতামুলক বাজারের মাধ্যমে গাড়ি শিল্প গড়ে তুলতে হবে।”

গাড়ি উৎপাদনের নীতিমালায় সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “গাড়ি তৈরি করলে আপনি দেশে বিক্রির পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করতে পারবেন। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরীণ সড়ক অবকাঠামো ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সঠিক না হলে আপনি অভ্যন্তরীণ বাজার তৈরি করতে পারবেন না।”

শুল্কায়ন ব্যবস্থা পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্বারোপ করে আহসান মনসুর বলেন, “দেশের সামষ্টিক পর্যায় চিন্তা করে শুল্ক হার আরোপ করতে হবে। আমদানি পর্যায়ে যে শুল্ক হার আরোপ করা হচ্ছে তখন তা সম্ভব হবে না। তাই ওই শুল্ক হার কি হবে তাও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”

পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশ চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ বলেন, বর্তমান গাড়ি উৎপাদনকারী দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে যাচ্ছে। বিশেষ করে জাপান, জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে যাচ্ছে। নরওয়ের বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে আসছে ২০২৫ সালে।

“এমন পরিস্থিতিতে আমাদের গাড়ি উৎপাদন শিল্পে যেতে হলে অবশ্যই সর্বাধুনিক বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির দিকে যেতে হবে।”

বারভিডা প্রেসিডেন্ট আব্দুল হক বলেন, “দেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির মাধ্যমে দেশে আমরা দীর্ঘ ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে এই খাতটি গড়ে তুলেছি। তাই দেশে গাড়ি উৎপাদন করলে আমরাও যেন ধ্বংস হয়ে না যাই, সেটিও মনে রাখতে হবে।”