খবর

‘বঙ্গবন্ধু বেসরকারি খাতের পক্ষে ছিলেন’

12 November, 2020
Source: The Daily Bonikbarta

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান বলেছেন, অনেকে মনে করে বঙ্গবন্ধু বেসরকারি খাতের পক্ষে ছিলেন না। এটি সত্য নয়। স্বাধীনতার পর ফরেন এক্সচেঞ্জ ছিল না। ফলে বাণিজ্য করতে হতো বার্টার সিস্টেমে। কিছু পণ্য রফতানির বিপরীতে আমদানি হতো। যখন বেক্সিমকো শুরু করলাম আমাদের প্রস্তাবে রাজি হলেন। তবে শর্ত দিলেন ৬০ শতাংশ প্রচলিত পণ্য রফতানি করতে পারব। বাকি ৪০ শতাংশ অপ্রচলিত পণ্য।

তিনি বলেন, পাট চামড়া আর চিংড়ি এগুলো ছিল অপ্রচলিত পণ্য। তখন চা কে রফতানিপণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন বঙ্গবন্ধু। ওষুধ সার কীটনাশক এনেছি। তখন থেকেই রফতানি বহুমুখীকরণের গুরুত্ব বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন। সেটা বাস্তবায়নের জন্য বেসরকারি খাতকেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে আনা সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে আজ বুধবার জাতীয় সংসদে এসব কথা বলেন সালমান ফজলুর রহমান।

গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানাতে ১৪৭ বিধিতে সাধারণ প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। সেই প্রস্তাবের ওপর সংসদ সদস্যদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এ আলোচনায় অংশ নিয়ে সালমান ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তান আমলে বেশিরভাগ শিল্পের মালিক ছিল পাকিস্তানিরা। বঙ্গবন্ধু শিল্পকারখানা জাতীয়করণ করে সেগুলোর প্রশাসক নিয়োগ দিলেন আমাদের। পরিচালনার দায়িত্ব আমাদের হাতেই থাকলো।

তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও বঙ্গবন্ধুর মতো বেসরকারি খাতরে ওপর বিশ্বাস রাখেন। বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেন তবে এতদিন সোনার বাংলা গড়ে তুলতেন। আমাদের সৌভাগ্য আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া স্বপ্ন পূরণে হাল ধরেছেন তিনি, এই দেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করবেন।

আলোচনায় ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, অনেক বেদনার সাথে বলতে হয়, যে মহান নেতা এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য জীবনের বেশিরভাগ সময় করাগারে কাটিয়েছেন, পরাধীন জাতিকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ উপহার দিয়েছেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত ধ্বংস্তূপের উপর দণ্ডায়মান একটি দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করতে নিরলস কাজ করেছেন। সেই অবিসংবাদিত নেতাকে এদেশের কিছু বিশ্বাসঘাতক বাঁচতে দেয়নি। ৭৫ এর ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি, হত্যা করা হয়েছে একটি জাতিসত্তাকে।

অন্যদের আলোচনায় অংশ নেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একেএ মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, মৃণাল কান্তি দাস, আবদুস সোবহান মিয়া, নজরুল ইসলাম বাবু, জাতীয় পার্টির আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রমুখ।