খবর

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা পেতে দক্ষ মানবসম্পদের বিকল্প নেই

11 February, 2020
Source: The Daily Bonikbarta

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে দেশের মানবসম্পদের দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে হালকা প্রকৌশল শিল্পপণ্য প্রদর্শনী-২০২০ উদ্বোধনকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সহযোগিতায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে ব্র্যাক ও বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিইআইওএ)। দেশব্যাপী হালকা প্রকৌশল শিল্প খাতের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন, বাজার চাহিদা ও পণ্যসংক্রান্ত তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশ্বের কাছে বিস্ময়। তাদের কাছে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। সামনে যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে প্রবেশ করছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে দক্ষ মানবসম্পদের কোনো বিকল্প নেই। সরকার এখন থেকে তরুণদের কর্মসংস্থানের দিকে নজর দিচ্ছে, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং (হালকা প্রকৌশল) তার একটি অংশ। এ খাতকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শুধু হালকা প্রকৌশল পণ্য নয়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ড্রোনও তৈরি করবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা আরো বলেন, ভবিষ্যতে অনেক বড় বাজার তৈরি হবে। তাই হালকা প্রকৌশল শিল্পপণ্য খাতে অবশ্যই দক্ষতা উন্নয়ন প্রয়োজন। তবে তাতেই হবে না, এর সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয়ও ঘটাতে হবে।

এসএমই সেক্টরের কথা উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান বলেন, এসএমই সেক্টরের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অর্থায়ন। তার জন্য আমাদের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বসে ঠিক করতে হবে। এ সেক্টরকে কীভাবে লো কস্ট ফিন্যান্সিং (কম খরচে অর্থায়ন) করতে পারি, তা ঠিক করতে হবে। তা না হলে হালকা প্রকৌশল খাতের পরিবর্তন হবে না। কারণ যেকোনো অর্থনীতির ব্যাকবোন (মেরুদণ্ড/প্রাণ) হলো এসএমই সেক্টর।

অর্থনীতির দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির একটি বিশেষ দুর্বলতা হলো রফতানি শুধু গার্মেন্টস খাতের ওপর নির্ভরশীল। তবে এ খাতে বৈচিত্র্য আনার জন্য চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু তার জন্য সরকারের পাশাপাশি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিব বর্ষকে হালকা প্রকৌশল পণ্যের বছর বলে উল্লেখ করেছেন বলেও জানান তিনি।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, যখন প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেছিলেন, তখন অনেক লোক হাসাহাসি করেছিলেন। এখন কিন্তু বাংলাদেশ ডিজিটাল হয়েছে। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিকে কীভাবে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগবিষয়ক এ উপদেষ্টা বলেন, একদিকে আমাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে, অন্যদিকে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞানও অর্জন করতে হবে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এই তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশ কীভাবে ঘটবে, এ বিষয়ে এখন থেকে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, দেশে প্রতিনিয়ত প্রবৃদ্ধি বাড়লেও সে তুলনায় কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। যে কারণে দেশে তরুণদের বড় এক অংশ বেকার। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কর্মমুখী না হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাচ্ছে না। এ বিষয়ে এখন থেকে ভাবতে হবে, নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি ও দক্ষতা মানবসম্পদ সৃষ্টি করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল হালিম, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাকসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।