খবর

উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর সালমান রহমানের

11 February, 2020
Source: bdnew24.com

বাংলাদেশে হাল্কা প্রকৌশল শিল্পের উন্নয়নে দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের কাছে উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহের উপর জোর দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

অনুষ্ঠানে হাল্কা প্রকৌশল শিল্পের মাধ্যমে ড্রোন তৈরির উপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিসিককে উন্নত প্রযুক্তি আনার পারমর্শও দেন।

সোমবার দুদিন ব্যাপী ‘হাল্কা প্রকৌশল শিল্প পণ্য প্রদর্শনী ২০২০’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সালমান রহমান। ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই প্রদর্শনী আয়োজন করে ব্র্যাক।

সালমান রহমান বলেন, “আমাদের হাল্কা প্রকৌশল শিল্পের প্রধান সমস্যা তিনটি। এসব সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে হাল্কা প্রকৌশল শিল্পের উন্নয়ন করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব খাত সময়োপযোগী করে গড়ে হবে।

“এর একটি হচ্ছে দক্ষতা বৃদ্ধি। দক্ষতার বৃদ্ধির মাধ্যমে বর্তমানে যে শিল্প পণ্যের উৎপাদন হচ্ছে সেটাও দরকার। আবার তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পণ্যও উৎপাদন করতে হবে।

“দ্বিতীয়টি হচ্ছে দেশে উন্নত টেকনোলজি আনা। শুধু দক্ষতা উন্নয়ন করলেই হবে না। এরসঙ্গে উন্নত প্রযুক্তিও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা এই টেকনোলজি কিভাবে আনব, কিভাবে ডিস্ট্রিবিউট করব, এগুলো খুবই গুরত্বপূর্ণ।

উদ্যোক্তাদের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিসিককে কর্মসূচি নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “ড্রোন হাল্কা প্রকৌশল শিল্পের মাধ্যমে হচ্ছে। আমরাও ড্রোন বানাব ইনশাআল্লাহ। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের হাত ধরে এই পণ্যটির বিরাট বড় মার্কেট হবে।”

হাল্কা প্রকৌশল শিল্পের তৃতীয় সমস্যা হিসেবে অর্থায়নকে চিহ্নিত করে সালমান রহমান বলেন, “এটার জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে। বাংলাদেশের ব্যাংকের সঙ্গে বসে কথা বলতে হবে কীভাবে আমরা এসএমই খাতের সহজ ও কম সুদে ঋণ সরবরাহ করতে পারি।

“এটা আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এটা যদি আমরা সমাধান করতে না পরি তাহলে হাল্কা প্রকৌশল শিল্প একটি ভালো খাতে উন্নীত করা সম্ভব হবে না।”

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শিল্প সচিব আব্দুল হালিম এসএমই খাতের অর্থ সঙ্কট দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে উপায় বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি মানফ্রেড ফার্নহোলজ বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় ব্র্যাক ২০১৭ সালের মার্চ থেকে তিন বছরব্যাপী হাল্কা প্রকৌশল শিল্পের প্রশিক্ষণ দিতে ‘প্রোগ্রেস’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এ প্রকল্পটির মাধ্যমে হাল্কা প্রকৌশলে ৪০ হাজার ছোট উদ্যোক্তা ও ১০ হাজার এসএমই উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এসব উদ্যাক্তার শিল্প এখন মেলায় প্রদর্শন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সর্বাধুনিক প্রযুক্তির অভাবে বাংলাদেশের হাল্কা প্রকৌশল শিল্প প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।

“বাংলাদেশের হাল্কা প্রকৌশল শিল্পপণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিনা ‍শুল্কে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের ঠিকমতো উন্নয়ন করতে পারলে শুধু এই খাত থেকেই মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ জোগান দেওয়া সম্ভব হবে।”

অনুষ্ঠানে এর আগে ব্রাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কর্মসংস্থান সৃষ্টি। দেশের এখন প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ এখনও ৩০ বছরের নিচে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তালমিলিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্তমানে দেশের ৪৭ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট এখন বেকার। অথচ এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে প্রকৌশল শিক্ষা দিতে পারলে এসব যুবকের কর্মসংস্থানের সমস্যা হত না।”

হাল্কা প্রকৌশল শিল্পে অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে পারলে এখাত জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩ শতাংশ জোগান দেবে বলে মনে করেন আসিফ সালেহ।