খবর

গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে উন্নয়ন ভিন্নমাত্রা পাবে

27 November, 2019
Source: The Daily Bonikbarta

মাতারবাড়ী ও পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে শুরু হবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বলেছেন, এ দুই বন্দর চালু হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন ভিন্নমাত্রা পাবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বিদ্যমান বাধাগুলো আগামী দুই বছরের মধ্যে দূর হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

গতকাল ৩৩তম কনফেডারেশন অব এশিয়া-প্যাসিফিক অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিএসিসিআই) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সালমান এফ রহমান।

তিনি বলেন, আমাদের কোনো গভীর সমুদ্রবন্দর নেই। সিঙ্গাপুর থেকে ফিডার ভেসেলে করে পণ্য আমদানি করতে হয়। এ সমস্যা সমাধানে সরকার দুটি গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে। এর একটি কক্সবাজারের মাতারবাড়ী, অন্যটি পটুয়াখালীর পায়রা। আশা করা যাচ্ছে, আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে এ বন্দরগুলো কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। তখন বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র ভিন্নমাত্রা পাবে।

২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য রয়েছে উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পন্ন হওয়া। এরই মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। দেশের ৯২ শতাংশ এলাকা বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। শিল্পায়নের জন্যও প্রচুর জ্বালানি দরকার। এজন্য জ্বালানি খাত বহুমুখী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে আমদানি করা হচ্ছে এলপিজি, এলএনজি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সিএসিসিআই সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ২৮ দেশের ব্যবসায়ীরা অংশ নিয়েছেন। গতকাল সম্মেলনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিএসিসিআই সভাপতি সামির মোদি, ভাইস প্রেসিডেন্ট পেডরি কুমার সারেস্টা, এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফ।

সম্মেলনের প্রথম দিন এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ১০ বছরের ব্যবসায়িক উন্নয়নচিত্র তুলে ধরা হয়। এছাড়া বিনিয়োগ সম্ভাবনার খাতগুলো তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত অগ্রসরমান দেশগুলোর মধ্যে এগিয়ে থাকা দেশের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। এক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এখনো অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জ্বালানি, অবকাঠামো আর জমির সংকটে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়ন। এসব সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। ২০২১ সালের মধ্যে যথেষ্ট সমাধান আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।