খবর

প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শিশুদের শেখানো হবে কোডিং -সালমান এফ রহমান

20 October, 2019
Source: The Daily Inqilab

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শিশুদের শেখানো হবে কম্পিউটারের ভাষা বা কোডিং। এজন্য পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন সংস্থার কাজে সমন্বয়ের তাগিদ দেন সালমান এফ রহমান। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, ন্যানো টেকনোলজি, থিডি প্রিন্টিং, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি, কিংবা ইন্টারনেট অব থিংসের মতো উদ্ভাবন বলে দিচ্ছে সময়টা এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের। যার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে উৎপাদন ব্যবস্থা, পাল্টে যাচ্ছে জীবন যাপনের ধরন। এই যেমন, ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়া। ছোট্ট এই দেশটাকে বলা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে ডিজিটাল সোসাইটি। যেখানে প্রাথমিক স্কুলেই শিশুদের শেখানো হচ্ছে কোডিং।

রোববার (২০ অক্টোবর) ‘দক্ষতা বিকাশের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ বিষয়ক কর্মশালায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কর্মশালায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা বিশেষজ্ঞর পাশাপাশি উচ্চ সরকারী কর্মকর্তা, বেসরকারী খাতের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগীরা কর্মশালায় অংশ নেন এবং জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে সুপারিশ করেন। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) সোনারগাঁও হোটেলে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) মো. ফারুক হোসেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণের পর সরকার এবার নিতে চায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ। অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক দুই বাজারে সরবরাহ করতে চায় দক্ষ মানবসম্পদ। কারণ, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হতে এর বিকল্প দেখছেন না নীতি নির্ধারকরা।

সালমান এফ রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হিসাবে শুধু দেশেই দক্ষ শ্রম শক্তির চাহিদা প্রায় সোয়া সাত কোটি। যার অভাব পূরণে কাজ করছে কয়েক লাখ বিদেশি। এতে বছরে বিদেশে চলে যাচ্ছে কয়েক বিলিয়ন ডলার। আবার দক্ষতার অভাবে বিদেশের শ্রমবাজারেও ভাল করতে পারছে না বাংলাদেশ।

সালমান এফ রহমান জানান, দেশের তৈরী পোশাক খাতে মধ্য পর্যায়ে অনেক বিদেশি কর্মরত, যা আমাদের জন্য দুঃখজনক। কিভাবে দক্ষ জনবল সৃষ্টি করে দেশি শিল্পে নিয়োজিত করা যায় সেই কৌশল ঠিক করতে হবে। তিনি বলেন, শুধু বিদেশের বাজারের জন্য দক্ষতা নয়, দেশি শিল্প উপযুক্ত শ্রমিক তৈরি করতেও কর্মপন্থা হাতে নেয়া জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে জাপানে জনবল পাঠাতে যে দক্ষকর্মী তৈরি করা হয়, সমন্বয়ের অভাবে শতভাগ পাঠানো যায়নি বলে মনে করেন সালমান এফ রহমান।

কর্মশালায় বলা হয়, প্রতিবছর চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে ২২ লাখ নতুন মুখ। কিন্তু বেশিরভাগই বেকার থাকেন দক্ষতার অভাবে। কর্মদক্ষতা না থাকায় বিদেশেও স্বল্প আয়ের চাকরিতে যোগ দেন, কারণ চাকরি বাজারের চাহিদা পূরণে তারা ব্যর্থ হন। তাই আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জোর দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দক্ষতার ঘাটতি বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতের জন্য একটি বড় বিষয়। যদিও প্রতিবছর ২ দশমিক ২ মিলিয়ন যুবক চাকরির বাজারে প্রবেশ করে। তাদের বেশিরভাগ বেকার থাকেন বা উপযুক্ত দক্ষতার অভাবে দেশে-বিদেশে স্বল্প আয়ের চাকরিতে নিযুক্ত হন। কারণ তারা চাকরির বাজারের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হন। তাই শুধু দক্ষ জনবল তৈরী করলেই হবে না, বাজার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন কাজের সুষ্ঠ সমন্বয়।

বক্তারা বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু দেশের দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দক্ষতার ঘাটতি আছে। এটি উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশ হওয়ার পথে একটি বড় অন্তরায়। ২০২০ সালের মধ্যে দেশীয় দক্ষ শ্রম চাহিদা ৭২ দশমিক ৪১ মিলিয়ন হবে। এর মধ্যে কৃষিতে ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন, নির্মাণ খাতে ৪ দশমিক ৪২ মিলিয়ন এবং তৈরী পোশাক খাতে ৫ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন। পোশক খাতের পর কৃষি-খাতে দক্ষতার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি।

সূচনা বক্তব্যে মো. ফারুক হোসেন বলেন, সারাদেশে সরকারী ও বেসরকারী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের দেওয়া জাতীয় দক্ষতা প্রশিক্ষণ গুলিতে কমপ্ল্যায়েন্স নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দক্ষতা বিকাশের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৯ এর আওতাধীন এনএসডিএ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারের চাহিদা মেটাতে উপযুক্তভাবে বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের জন্য জাতীয় দক্ষতার একটি অ্যাকশন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে চলেছে, তিনি যোগ করেন।

তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ সরকারী, বেসরকারী এবং এনজিও পরিচালিত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং অন্যান্য সংস্থাগুলির দক্ষতা কর্মসূচির সমন্বয় শুরু করেছে অভিনব সময়োপযোগী পদ্ধতিগুলির মাধ্যমে এবং পাঠ্যক্রম চালু, ইনস্টিটিউটের মানদন্ড পর্যবেক্ষণ এবং দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে। তিনি আরও বলেন, এনএসডিএ-এর এই উদ্যোগগুলি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে।

দক্ষতা বিকাশের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কিত একটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয় এবং একটি গোলটেবিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় যেখানে দক্ষতা বিশেষজ্ঞরা অ্যাকশন প্ল্যানের কাঠামো এবং এর ফরমেটগুলির বিষয়ে নানা সুপারিশ করেন। এছাড়া সর্টিফিকেশন, কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স এবং ইন্ডাস্ট্রি এনগেজমেন্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।