খবর

জামালপুর জোনে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের আহ্বান সালমান এফ রহমানের

22 June, 2019
Source: The Daily Manabzamin

চমৎকার বিনিয়োগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প স্থাপনের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি বরাদ্দের প্রসপেক্টাস বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব একথা বলেন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. মোজাফফর হোসেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (ইআরবি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মইন উদ্দিন (অব.) উপস্থিত ছিলেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, জামালপুর কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এখানকার অর্থনৈতিক জোনটি কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য উপযুক্ত। তাই ব্যবসায়ীরা জামালপুর জোনের চমৎকার পরিবেশে কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন করে লাভবান হতে পারবেন। তিনি বলেন, আমরা যে মধ্যম আয়ের দেশে যেতে চাই।

আন্তর্জাতিক বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হতে যাচ্ছি। সেক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চলের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই অঞ্চলগুলোতে আমরা বিনিয়োগ উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেছি। সব পরিসেবার উপযুক্ত ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা সহজে এখানে বিনিয়োগ করতে পারবেন। তিনি বলেন, আমরা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। এখন দরকার শিল্পের জন্য মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। কিন্তু আমাদের সঞ্চালন লাইনে কিছুটা দুর্বলতা থাকায় সেটা চাহিদামতো করা যাচ্ছে না। তাই শিল্পের জন্য যদি কেউ জাতীয় গ্রিড থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ নিতে চান, সে সুযোগ আমরা দিচ্ছি। যাতে শিল্প-কারখানা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পায়। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে সে দেশের সঙ্গে ২.৫ বিলিয়ন ডলারের যে ঋণ চুক্তি সই হবে, তার বেশিরভাগই হচ্ছে সঞ্চালন লাইন শক্তিশালী করা। শিল্পের জন্য ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তির বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে একটি সমস্যা হচ্ছে, ব্যাংকের বেশিরভাগ আমানত স্বল্পমেয়াদি কিন্তু যে ঋণ দেয়া হচ্ছে, সেটা দীর্ঘমেয়াদি। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। সরকার এই পরিস্থিতি উত্তরণের চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি ও গ্যাস-পানিসহ অন্যান্য পরিসেবা প্রায় প্রস্তুত। পর্যাপ্ত বিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে। শিল্পের উপযুক্ত শ্রমিক এখানে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি জামালপুরের সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন অত্যন্ত উন্নতমানের। তাই বিনিয়োগকারীরা এই জোনে শিল্প স্থাপন করে বেশি লাভবান হতে পারবেন।

সভাপতির বক্তব্যে পবন চৌধুরী বলেন, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নের কাজ আগামী বছর জুনের মধ্যে শেষ হবে এবং তখন থেকে শিল্প স্থাপন কাজ শুরু করা যাবে। গ্যাস সংযোগ লাইন ও ৩৩/১১ কেভিএ বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া ড্রেইনেজ সিসটেম, ভূমি উন্নয়ন, গ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার, প্রশাসনিক ভবন, ডরমেটরি, বাউন্ডারি ওয়াল, অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল ৪৩৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে ৩২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। জোনটি মূলত কৃষিভিত্তিক শিল্প ও গার্মেন্ট স্থাপনের জন্য উপযোগী।