খবর

ইয়ামাহার মোটরবাইক দেশেই সংযোজন

12 May, 2019
Source: The Daily Samakal

দেশে বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের সংযোজন কারখানা চালু করেছে এসিআই মোটরস। জাপানি কোম্পানি ইয়ামাহা এতে প্রযুক্তি সহায়তা দেবে। জমিসহ কারখানার অন্যান্য কাজে প্রাথমিকভাবে শতকোটি টাকা বিনিয়োগ করছে এসিআই।

গতকাল শনিবার রাজধানীতে হোটেল লা মেরিডিয়েন থেকে গাজীপুরের শ্রীপুরে মোটরসাইকেলের সংযোজন কারখানা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এসিআই গ্রুপের চেয়ারম্যান এম. আনিস উদ্‌ দৌলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম. আমিনুল ইসলাম ও ইয়ামাহা মোটর করপোরেশন জাপানের নির্বাহী মহাব্যবস্থাপক ইয়াসুতাকা সুজুকি বিশেষ অতিথি ছিলেন। এ ছাড়া এসিআই গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আরিফ দৌলা, এসিআই মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এফ এইচ আনসারী ও নির্বাহী পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিকভাবে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল সংযোজন করা হলেও এ কারখানায় এক বছরের মধ্যে মোটরসাইকেল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। গাজীপুরের শ্রীপুরে ৬ একর জমিতে স্থাপন করা হয়েছে এ কারখানা। এখন ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হলেও পর্যায়ক্রমে তা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন এসিআইর কর্মকর্তারা। কারখানায় ইয়ামাহার দুটি মডেলের মোটরসাইকেল সংযোজন করা হচ্ছে। বছরে গড়ে ৭০ হাজার মোটরসাইকেল সংযোজন হবে। পরে আরও সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এ কারখানায় আগামী দুই বছরে ৪ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে জানান কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ এইচ আনসারী।

সালমান এফ রহমান বলেন, এ কারখানা চালুর মাধ্যমে দেশে বিশ্বমানের পণ্য তৈরি হবে। প্রিমিয়ার ব্র্যান্ডের পণ্য হিসেবে ইয়ামাহার সুখ্যাতি আছে। এসিআই দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি কোম্পানি। উভয় প্রতিষ্ঠান গুণগত মান বজায় রেখে দেশে মোটরসাইকেল উৎপাদন করবে। তিনি বলেন, দেশে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত হওয়ায় বিশ্বের নামিদামি ব্র্যান্ড বিনিয়োগে এগিয়ে আসছে। সহজে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় আরও অনেক কোম্পানি বিনিয়োগে আসবে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, ইয়ামাহা ও এসিআই যৌথভাবে এখন সংযোজন কারখানা করছে। আগামীতে তারা মোটরসাইকেল উৎপাদন করবে। এটি প্রযুক্তিনির্ভর কারখানা হলেও এর মাধ্যমে উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি ও উচ্চ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

আনিস উদ দৌলা বলেন, সংযোজনের মাধ্যমে মোটরসাইকেল কারখানা চালু করা হলেও পরে উৎপাদন করা হবে। ইয়ামাহার প্রযুক্তি সহায়তায় এসিআইর কারখানায় মানসম্মতভাবে মোটরসাইকেল তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় দেশে মোটরসাইকেল শিল্প বিকাশে সময় উপযোগী নীতিমালা তৈরি করেছে। বিডাও কারখানা করতে সব অনুমতি সহজেই দিয়েছে। এতে বিনিয়োগ আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। এ কারখানায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করায় ১৪ শতাংশ কার্বন নির্গমন কম হবে।

ইয়ামাহার নির্বাহী মহাব্যবস্থাপক বলেন, বর্তমানে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বছরে ৫৩ লাখ ৭০ হাজার বিক্রি হচ্ছে। এর ৮৫ শতাংশ এশিয়ার বাজারে বিক্রি হয়। তিনি বলেন, এ দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী যুবক। এ কারণে এ দেশে বাজার বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেক। এ কারখানায় স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে মানসম্মত মোটরবাইক তৈরি করা হবে, যা সম্পূর্ণ তদারকি করবে ইয়ামাহার কারিগরি টিম।

আরিফ উদ দৌলা বলেন, এ দেশে মানুষের চলাচল সহজ করে দিয়েছে মোটরসাইকেল। এ সহযোগিতার অংশীদার এসিআই। তাদের কারখানায় সংযোজিত মোটরবাইক সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারে ছাড়া হবে বলে জানান তিনি।

সুব্রত রঞ্জন দাস বলেন, আড়াই বছর আগে এসিআই এ দেশে ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের একমাত্র পরিবেশক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এখন ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করায় সংযোজন কারখানা চালু করেছে। তিনি বলেন, এ দেশে এখন ৯৪ জনে একজন মোটরসাইকেল ব্যবহার করে, যা ভারতে ২০ জনে একজন ও ফিলিপাইনে ২৩ জনে একজন ব্যবহার করে।