খবর

কমপ্লায়েন্স না হলে পণ্য বিক্রি করতে দেওয়া হবে না: সালমান এফ রহমান

13 July, 2021
Source: Bangla Tribune

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি কারখানায় নিরাপদ কর্ম-পরিবেশ (কমপ্লায়েন্স) তৈরি করতে হবে। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। কারখানা কমপ্লায়েন্স না হলে পণ্য বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।


মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ), দ্যা এশিয়া ফাউন্ডেশন ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্ট্রিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড) আয়োজিত চামড়া শিল্প নিয়ে এক অনলাইন আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ‘রিভাইভিং দ্যা লেদার সেক্টর ইন দ্যা আফটারম্যাথ অব কোভিড-১৯’ শীর্ষক ওই ওয়েবিনারে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি শারমীন রিনভী।


ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে তিনটি পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশ (পিআরআই) এর গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক ও র‌্যাপিড এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. এম আবু ইউছুফ। ইআরএফ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।


ওয়েবিনারে সালমান এফ রহমান বলেন, দেশের কোনও শিল্প কারখানায় নিরাপদ কর্ম-পরিবেশ (কমপ্লায়েন্স) না থাকলে ভবিষ্যতে দেশের বাজারে তাদের পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তৈরি পোশাক শিল্পের অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের মতো দেশেই বিশেষ তদারকি প্রতিষ্ঠান গঠন করে সব কারখানাকে কমপ্লায়েন্স করা হবে। কমপ্লায়েন্স হওয়ার ক্ষেত্রে কারখানাগুলোকে সরকার দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়ন করবে। ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।


সালমান এফ রহমান বলেন, আমাদের দেশের শিল্প কারখানার বড় সমস্যা কমপ্লায়েন্স। তাজরীন ফ্যাশন ও রানা প্লাজার ঘটনার পর বিদেশি ক্রেতাদের চাপে তৈরি পোশাক শিল্পে কমপ্লায়েন্স হয়েছে। ব্র্যান্ডগুলোও স্বীকার করছে, বাংলাদেশের পোশাক কারখানা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্স। তবে বড় সমস্যা স্থানীয় বাজারের জন্য যারা পণ্য উৎপাদন করেন তাদের। সর্বশেষ সেজান জুস কারখানায় আগুণের ঘটনা তার প্রমাণ। সব আন্তর্জাতিক পত্রিকায় এর শিরোনাম হয়েছে। যা আমাদের জন্য নেতিবাচক।


সাভার চামড়া শিল্পনগরীকে কমপ্লায়েন্স করতে পারিনি


সালমান এফ রহমান বলেন, আমরা অত্যধিক মাত্রায় বুয়েট নির্ভর হয়েছিলাম। কিন্তু বুয়েট আমাদের সাংঘাতিকভাবে ভুল পথে হাটিয়েছে। বারবার ভুল নকশা করেও তা স্বীকার করেনি। আমাদের ঘুরিয়েছে। সিইটিপির নকশা যারা করেছিল তারা কাজটি সঠিকভাবে করেনি। তবে যেহেতু একটা অবকাঠামো হয়ে গেছে, তা ভেঙে ফেলা যাবে না। এখন এটাকে সংস্কার করে এগোতে হবে।


প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন,আমাদের পরিকল্পনা বিদেশি কাউকে দিয়ে সিইটিপির প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শেষ করা। আমি এরই মধ্যে একটি উদ্যোগ নিয়েছি। একটি আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে বলেছি এর দায়িত্ব নিতে।


গার্মেন্টসের মতোই সব খাতে সুবিধা দেওয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, গার্মেন্টস যে সুবিধা পায় তা পেলে অন্য খাতও ভালো করবে এটা আমরা সবাই বুঝি। এ বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রীও একমত। এটার ওপর আমরা শতভাগ সমর্থন দিয়ে কাজ করছি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বলবো তা নিয়ে যেনো কাজ করা হয়।


অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির পরিচাক ড. মিজানুর রহমান, ডিটিআইইডব্লিউটিপিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম জাহিদ হাসান ও ট্যানারি ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জিনাত আরা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।